নেতৃত্ব ও উন্নয়ন

নেতৃত্ব হচ্ছে সর্বজনবিদিত একটি সামাজিক প্রক্রিয়া যা সমাজস্থ মানুষের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এবং নেতা হচ্ছে সমাজ পরিচালনার মূখ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।যার দ্বারা সমাজের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।সমাজ পরিবর্তনশীল। আর পরিবর্তন কথাটির সাথে উন্নয়ন প্রত্যয়টি সম্পর্কযুক্ত।  পরিবর্তন হলো নতুন ভাব ও পদ্ধতির প্রতি প্রতিবেদনশীলতা। আমরা উন্নয়ন বলতে প্রাথমিকভাবে সামাজিক পরিবর্তনকে তথা সমাজ কাঠামোর পরিবর্তনকে বুুঝি। আর এ পরিবর্তন অবশ্যই উন্নততর দিকে। সুতরাং সমাজ ব্যবস্থা পরিচালনা এবং তার উন্নয়নকল্পে অবশ্যই যোগ্য নেতৃত্বর প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যদি সমাজব্যবস্থার উন্নয়ন চাই সেক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্বর বিকল্প নাই। সভ্যতার উষালগ্ন কিংবা তার পূর্ব থেকেই যখন মানুষ দলবদ্ধভাবে বসবাস করতো তখনও নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল। আর দল বা গোষ্ঠী মাত্রই নেতার নেতৃত্ব। সামাজিক পরিবর্তনের কাঠামোগত পরিবর্তনে মৌল কাঠামো তথা উৎপাদন,বন্টন,বিনিয়োগ,ভোগ,সঞ্চয় ব্যবস্থা কিরুপ হবে তা নির্নয় করে ঐ সমাজের নেতা।সুতরাং সমাজ উন্নয়নের প্রতিটি পদক্ষেপে যোগ্য তথা কার্যকরী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকরী নেতৃত্বের সংজ্ঞায় অগবন্নিয়া এভাবে বিবৃতি দেন যে,”যেকোন পরিস্থিতিতে যে ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে সফল হওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং কোনও সংস্থা বা সমাজের প্রত্যাশা পূরনকারী হিসেবে স্বীকৃতি পান।” এখানে যেকোন পরিস্থিতিতে সমাজ তথা সমাজে বসবাসকারী জনগনের চাহিদা পূরনকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যা হোক,আমাদের সমাজে এ ধরনের নেতার যথেষ্ঠ অভাব রয়েছে সে কথা পরে আসি।

“নেতৃত্ব” আসলে কি? আমরা ‘নেতা’ ও ‘নেতৃত্ব’ বিষয় দুটিকে আলাদা করে দেখি না। মুলত নেতা একজন ব্যক্তি অপরপক্ষে নেতৃত্ব হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া বা কতগুলো গুন।
‘নেতৃত্ব’ শব্দটির অর্থ ব্যাপক।  ইংরেজি Leadership শব্দটি এসেছে Lead থেকে যার অর্থ পথ দেখানো (To guide) , চালিত করা (To Conduct) , আদেশ করা(To direct)  ইত্যাদি। যিনি নেতৃত্ব দেন তাকে বলা হয় নেতা বা Leader। যেকোন সংগঠনের নেতা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত লোকজনের সামগ্রিক দলটিকে অভিষ্ঠ লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করেন এবং নেতা তার অনুগামীদের তার কাজ দ্বারা প্রভাবিত করেন বলে নেতৃত্ব একটি Art বা কলা। নেতা হলেন একজন মানুষ যিনি একদল মানুষকে একটি নির্দিষ্ট ফলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রভাবিত করেন।এই বিষয়টি কোন খেতাব বা প্রথাগত কর্তৃত্বের উপর নির্ভরশীল নয়।
নেতৃত্বের সংজ্ঞায় হেমফিল ও কুনস ব্যক্ত করেছেন যে,”নেতৃত্ব হলো একজন ব্যক্তির আচরন যখন তিনি একটি অবন্টিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি দলের কার্যাবলিকে পরিচালিত করে। ”
আবার ফ্রড লুথান্স এর মতে,”নেতার আচরন অধিনস্থদের কার্যফল এবং সন্তুষ্টির উপর প্রভাব বিস্তার করে। এই দুটি সংজ্ঞায় প্রথমটিতে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য তথা লক্ষ্য নির্ধারনের এবং দ্বিতীয়টিতে অধীনস্থ তথা অনুগামীদের (followers) সন্তুষ্টির কথা বলা হয়েছে।
একজন কার্যকরী নেতৃত্বের মধ্যে এই গুন দুুটি আবশ্যক। এসব বিবেচনা না করায় আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় আমরা নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ ভুল করে চলেছি। যার ফলে স্বল্প উন্নয়ন এবং দারিদ্র্যের কষাঘাতে আমাদের প্রতিনিয়ত পিষে মরতে  হয়।একজন কার্যকরী, যোগ্য এবং নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন নেতাই কেবল আমাদের সঠিক পথ দেখাতে পারেন,সঠিক পথ তথা উন্নয়নের পথে পরিচালিত করতে পারেন এবং সঠিক পথের নির্দেশনা দিতে পারেন। পরিবার যদি একটি ক্ষুদ্র সংগঠন হয় তবে সমাজ,রাষ্ট্র একটি বৃহৎ সংগঠন। এ সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী অগবার্ন ও নিমকফ বলেন” রাষ্ট্র হলো একটি সংগঠন যা নির্দিষ্ট ভূখন্ডে সার্বভৌম সরকার কর্তৃক শাসিত।” অর্থাৎ রাষ্ট্র একটি সংগঠন । আর এ সংগঠন পরিচালনার প্রতিটি স্তরে যোগ্য নেতৃত্বর অভাবে আমাদের উন্নতির দিকে পরিবর্তন ব্যাহত হয়।যোগ্য নেতা বা কার্যকরী নেতৃত্ব বলতে আমরা বুঝি,বিচক্ষনশীল,দায়িত্বশীল, সৎ,বয়োজ্যেষ্ঠ এবং জ্ঞানী নেতাকে। নেতা যদি একজন  শাসক হয় সে প্রসঙ্গে নিকোলো ম্যাকিয়াভেলী বলেছেন,”শাসক হবে শৃগালের মতো ধ্রুত এবং সিংহের মতো সাহসী।” জ্ঞানই শক্তি। একজন নেতাকে অবশ্যই জ্ঞানী হতে হবে, জানতে হবে। কি জানতে হবে? অগাধ পান্ডিত্য? হ্যাঁ তারও প্রয়োজন আছে। কেননা নেতার শির সর্বদা উঁচু থাকা চাই। কিন্তু তা মূখ্য নয়। মুখ্য হলো পুঁথিগতবিদ্যার বাইরে নেতাকে অবশ্যই তার অনুগামীদের সম্পর্কে জানতে হবে। নেতা যদি তার অনুগামীদের থেকে দুরে সরে যায় তবে সে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের আদৌ উন্নয়ন সম্ভব নয়। নেতার জ্ঞান বলতে বুঝায় একজন নেতা তার অনুগামীদের চাাহিদা ও জীবনমান  সম্পর্কে কতটুকু জানে। কিসে তার অনুগামীদের সুবিধা,কিসে অসুবিধা। কোন উপায় অবলম্বন করলে তার অনুগামীরা সর্বাধিক লাভবান হবে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রনয়নের জ্ঞানই হচ্ছে নেতার জ্ঞান। আর এই জ্ঞান সম্পন্ন নেতাই উন্নয়নের বাহক। আমাদের সমাজব্যবস্থায় আমরা এমন নেতাকে খুঁজে পাই না , পেলেও তাকে আমরা গ্রহন করি না। তাকে নেতৃত্বের সুযোগ দেই না। আমাদের বদ্ধমুল ধারণা যে যার যত প্রভাব প্রতিপত্তি বেশি সে নেতা তত বেশি কার্যকরী । আসলে তা নয়। একজন কার্যকরী এবং সফল নেতার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অনুগামীদের জানা,লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারন,কর্তৃত্বের  ক্ষমতা,বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহন, নিপুণ সংগঠক,সদস্য বা অনুগামীদের কাছে আদর্শ স্থানীয় ও সৎ,বিনীত ও সক্রিয়,সাহসী,সদস্যের মতামতের মুল্যায়ন করার ক্ষমতা ইত্যাদি। সরকার বা রাষ্ট্র প্রধান একই সাথে একজন শাসক এবং নেতা।সুতরাং রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে তাকেও তার অধীনস্থদের জানা ও মতামতের মুল্যায়নের ক্ষমতা থাকতে হবে। তাতে  করে সামাজিক পরিবর্তন উন্নতির দিকে বেগবান হবে।  কেননা, আমরা যে সমাজে বাস করি,সে সমাজের সুযোগ সুবিধা-অসুবিধা,উপযোগিতা সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই স্পষ্ট ধারনা আছে। তৃণমুল নেতা বা প্রতিনিধি যদি একটি বাজেট প্রনয়ন কিংবা বাস্তবায়নের পূর্বে তথা পরিকল্পনা গ্রহনের পূর্বে  আমাদের সঙ্গে আলোচনায় পরামর্শ বা উপযোগিতা সম্পর্কে জানতে চায় তবে আমরা তাকে কিছুটা হলেও স্পষ্ট ধারনা দিতে পারবো নিশ্চয়ই। এবং গৃহীত পদক্ষেপ ও প্রকল্প জনকল্যানার্থে উপযুক্ত হবে নিঃসন্দেহে।
নেতার জন্ম বা সৃষ্টি নিয়ে বিতর্ক আছে। সনাতন ভাবধারায় বলা হয়েছে,”Leaders are born,not made.”অর্থাৎ নেতৃত্ব জন্মায়,তৈরি হয় না। আবার বর্তমান সময়ে বলা হয়,”Leaders are made,not born .”অর্থাৎ নেতৃত্ব তৈরি হয়,জন্মায় না। বর্তমান সময়ের ধারনাটি অধিক গ্রহনযোগ্য। নেতৃত্বের এ দক্ষতা সুলভ তাত্ত্বিকদের মতে ,নেতৃত্ব কখনোই জন্মগত নয়।বরং শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত ক্ষমতা বিশেষ।  নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে হলে নেতাকে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় নেতাকে যে পরিপূর্ণতা দান করে ,তার ফলেই তিনি নেতা হিসেবে প্রতিভাত হন। নেতা ও নেতৃত্বের জন্ম সম্পর্কে গ্রীক পন্ডিত এপিকটেটাস বলেছেন,”আগে গাছ জন্মায়, তারপর তাতে ফল আসে এবং সবশেষে ফল পাকে।” ঠিক তেমনি যিনি নেতা তিনি ঐ গাছের মতোই আগে জন্মায়।এবং তারপর তার মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। সুতরাং এ কথা পরিষ্কার যে নেতৃত্ব অর্জন করতে হয় নেতাকে। নেতার মধ্যে নেতৃত্বের অর্জনই মূখ্য। বর্তমান সমাজে এই নেতা দুর্লভ।
হলোএ্যান্ডার(১৯৭৬) চিত্রের মাধ্যমে তার নেতৃত্বের তত্ত্বের অর্থ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন,নেতার অবস্থান তার অনুগামীদের থেকে ভিন্ন নয়। এছাড়াও হলোএ্যান্ডার ও জুলিয়ান (১৯৬৯) এর বক্তব্য হলো, নেতৃত্ব একটি দ্বিমুখীপ্রভাবের সম্পর্ক অর্থাৎ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নেতা ও অনুগামীদের  আদানপ্রদানের (Transaction)  সম্পর্ক রয়েছে। এ আদান প্রদানে নেতা  অনুগামীদের প্রত্যাশা পূরনের চেষ্টা করেন এবং অনুগামীরা নেতার প্রচেষ্টা ও কার্যাবলীর প্রেক্ষিতে তার মূল্যায়ন করেন। উপরোক্ত আলোচনায় এ বিষয়টি বুঝাতে চেষ্টা করেছি যে,নেতা ও অনুগামীদের মধ্যে সম্পর্কই হচ্ছে যোগ্য বা কার্যকরী নেতৃত্ব। নেতৃত্বের পথ-লক্ষ্য তত্ত্বটি তৈরি করেন রবার্ট হাউস(১৯৭১)। হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী এই তত্ত্বের মুল কথা হচ্ছে,”একটি অধি-বচনে। সেটি হল,কার্যকরী হতে গেলে নেতাদের এমন আচরন করতে হবে যা অধস্তনদের কাজের  পরিবেশ ও ক্ষমতার এমনভাবে পরিপূরক হয়ে ওঠে যাতে সমস্ত অসম্পূর্ন পূরণ হয়ে যায় এবং তা অধস্তনদের সন্তুষ্টি এবং ব্যক্তি মানুষ এবং কর্মক্ষেত্রের কার্যসম্পাদনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হয়।এই তত্ত্ব নেতাদের চার ধরনের আচরনকে চিহ্নিত করে। কৃতিত্বমুখী,নির্দেশক, অংশগ্রহনমুখী এবং সহায়ক। আর কার্যকরী নেতৃত্বই উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে সক্ষম হয়।
উন্নয়নের একটি নির্দিষ্ট ও গ্রহনীয় সংজ্ঞা নির্ধারন করা খুবই কঠিন। কারন এক এক তাত্ত্বিকরা এক এক ধরনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।  অর্থনীতিবিদরা উন্নয়ন বলতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সমাজবিজ্ঞানীরা সমাজ  উন্নয়ন, মনোবিজ্ঞানীরা মানুষের মন-মানসিকতার উন্নয়ন,প্রযুক্তিবিদরা প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নৃবিজ্ঞানীরা সমাজ ও সংস্কৃতির উন্নয়নের উপর জোড় দিয়েছেন।ফলে কেউই উন্নয়নের সর্বজনীন এবং গ্রহনীয় সংজ্ঞা দিতে পারেন নি।প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে উন্নয়নের সংজ্ঞা দেবার চেষ্টা করেছেন।
‘উন্নয়ন’ শব্দের অর্থ হলো উন্নতি হতে যাচ্ছে এমন অর্থাৎ উন্নয়ন হলো পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া যা বস্তুগত ও মানসিক উভয় ব্যাপার হবে। কোন সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক,সামাজিক,রাজনৈতিক,মানসিক,চিন্তাগত ও সাংস্কৃতিক অবস্থা ইত্যাদির উন্নতির দিকে পরিবর্তনই হলো উন্নয়ন। এ সব বিষয়ের সুসংগঠিত কাঠামো গঠনপূর্বক উৎপাদনমূখী প্রযুক্তির ব্যবহার,শ্রম,মেধা ও পুঁজির সঠিক প্রয়োগ সংবলিত ব্যবস্থা থেকে প্রাপ্ত সুফল সমাজ বা রাষ্ট্রের জনগেনর চিন্তা চেতনায় যৌক্তিকভাবে নিবেদন করলে জনগনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক যে উন্নতি সাধন হয় তা-ই উন্নয়ন। কিন্তু জনগন বা অনুগামীদের মধ্যে এ যৌক্তিক চিন্তা চেতনা নিবেদন করবে কে? নিঃসন্দেহে একজন কার্যকরী নেতৃত্ব সস্পন্ন নেতা। পূর্বেই এ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে নেতৃত্ব একটি কলা। সুতরাং অনুগামীদের কাজ করিয়ে নেবার ক্ষমতাও যোগ্য নেতৃত্বের অন্যতম গুন। নেতা যদি অনুগামীর অগ্রাধিকার চাহিদা মত সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে সক্ষম না হন তবে কাঙ্খিত উন্নয়ন ব্যাহত হয়। আমাদের দেশে স্বল্প বরাদ্দে সবকিছু একেবারে সেড়ে উঠা বা সকল স্তরে একই সাথে উন্নয়ন সম্ভব নয়। উদাহরন হিসেবে বলা যায়,মনে করি একজন ব্যক্তির একই সাথে একটি লুঙ্গি এবং একটি জামা অতীব জরুরী। কিন্তু দুটো বস্ত্র একসাথে কেনার মতো অর্থও হাতে নেই। হয় লুঙ্গি,নয়তো জামা কিনতে হবে। তাহলে আমরা ঐ ব্যক্তিকে নিঃসন্দেহে লুঙ্গি আগে কেনার পরামর্শ দিবো। পরবর্তীতে সুযোগ হলে জামা কেনা যাবে। অর্থাৎ আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি যে লোকটির অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন লুঙ্গি।  ঠিক আমাদের সীমিত আয় ও বরাদ্দকৃত অর্থ যদি সঠিক খাতে সঠিক পরিকল্পনা অনুসারে ব্যবহার করতে পারি তবে আমাদের উন্নয়ন ক্রমবর্ধমান হবে। এক্ষেত্রেও অনুগামীর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের বিকল্প নাই। কিন্তু উন্নয়ন প্রত্যয়টি ধনী এবং দরিদ্র দেশের ক্ষেত্রে একই অর্থ বহন করে না। দরিদ্র দেশের ক্ষেত্রে উন্নয়ন হলো অস্তিস্থ রক্ষার উন্নয়ন। স্বাভাবিক জীবনযাপনের উন্নতি করার চেষ্টা। কিন্তু ধনীদেশে উন্নয়নের অর্থ ‘উন্নয়নের উপর আরো উন্নয়ন’। অর্থাৎ চাহিদার উপর উন্নয়ন সম্পর্কিত। আগে মৌলিক চাহিদাগুলোর প্রাধান্য দিয়ে তারপর বিলাশীতার দিকে যাওয়ার পথ খুঁজতে হবে। যাদের মৌলিক চাহিদার অভাব নেই তারাই কেবল বিলাশীতার অভাব পূরনকে উন্নয়ন বলে।মোট কথা, উন্নয়ন প্রত্যয়টি অনুগামীর চাহিদার উপর নির্ভরশীল।
প্রশ্ন হলো,নেতা অনুগামীর কাছে যাবে নাকি অনুগামী নেতার কাছে যাবে? বর্তমান প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় নেতাকে অনুগামীদের কাছে যাওয়াই শ্রেয়। কেননা অনুগামীদের নেতার কাছে যাবার কোন সহজ পথ নাই। যদিও আমরা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাস করি। আর যদি অনুগামী কখনো কোন বিষয়ে নেতার নিকট পৌঁছানো আবশ্যক মনে করেন তবে তার একমাত্র পথ হলো আন্দোলন।  যা একটি রাষ্ট ব্যবস্থায় অসম্মানজনক।
উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া তা একশ ভাগ সত্য। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান কাঙ্খিত নয়। কিন্তু উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই,ততটুকু যতটুকু নেতা তার দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করেছে। অথবা আন্দোলনের ফসল হিসেবে।এক্ষেত্রে নেতার সততা অত্যন্ত জরুরী।বর্তমান দৃশ্যমান উন্নয়ন বরােদ্দর হারে যথাযথ নয়।  কারন তৃনমুল ও উর্ধতন স্তরে যোগ্য তথা কার্যকরী নেতৃত্বের অভাব। এ ক্ষেত্র আমালাতান্ত্রিক নেতৃবৃন্দকেও বাদ দিলে চলে না।
অনুগামীেদর কোন ভার নেই সে কথা বলছি না। অনুগামীকেও অবশ্যই নেতার বাস্তবমুখী পরিকল্পনায় অংশগ্রহন এবং তা বাস্তবায়নে একনিষ্ঠ ভুমিকা পালন করতে হবে। এবং নেতার প্রতি অনুগত হতে হবে। কিন্তু যদি নেতার গৃহীত কোন পরিকল্পনায় উন্নয়নের চেয়ে ক্ষতির পরিমান বেশি দাড়ায় তবে অনুগামী তথা জনগনের স্বার্থে নেতাকে অবশ্যই সে সিদ্ধান্ত পরিহার করা উচিত। নেতা ও অনুগামীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকলেই কেবল উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আমার বিশ্বাস। সুতরাং নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে চায়ের চেয়ে আমাদের নিজেদের স্বার্থে নিজেদের চাহিদার উপর এবং কার্যকরী নেতৃত্বের প্রতি বেশি আকর্ষন থাকা অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।

রাসেল আহমেদ
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান,মজিদা আদর্শ কলেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *