রূপগঞ্জে শাপলা বিল

আপনার সাংবাদঃ

আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। বর্ষাকাল মানেই শাপলা ফোটার দিন। শুধুই কি শাপলা? কদম, টগর, লিলি, কেয়া, কলাবতী সব বর্ষাকালের ফুল। শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। বাংলাদেশের অন্যতম ঋতু বর্ষাকাল। যা চোখে পড়ার মতো। চারদিকে পানি আর পানি। বর্ষা, বর্ষার ফুল নিয়ে বড় বড় কবি-লেখকদের অনেক গল্প, কবিতা ও গান রয়েছে। এসব পড়ে আমরা বাংলাদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ ও ঋতু বৈচিত্র্য সমন্ধে জানতে পারি। গান গেয়ে আনন্দ পাই।

এবার আমরা কয়েকজন মিলে নৌকায় ঘুরতে যাবো বলে সবাই স্থির করি। শুক্কুর আলী মামা বলেন, এবার আপনাদের এমন স্থান ও জিনিস দেখাবো যা আগে কখনো দেখনি। যেমন ভাবা তেমন কাজ। শুক্কুর আলী মামার নেতৃত্বে আমরা কয়েকজন খোলা নৌকায় ওঠে বসলাম। হারুন চাচা  কিছু মজাদার খাবার ও পানি সাথে নিলেন। দুই পাশে ধানক্ষেত, মাঝখান দিয়ে নৌকা চলছিল। আমি যেন কবি হয়ে মনের সুখে ছড়া কাটিছিলাম।

‘বর্ষার জল করে টলোমল/বর্ষার জলে হাঁস খেলা করে।’ বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর আমি চিত্কার করে উঠে বলি ওয়াও। বাগান, ফুলের বাগান। পানির উপর এতো ফুল গাছ কে লাগিয়েছে? আমরা সচকিত হয়ে তাকিয়ে দেখি, কখন যে ধানক্ষেত পেরিয়ে অসংখ্য শাপলা ও জলজ লতাগুল্মে ভরা ঝিলে এসে পৌঁছেছি। আমি চিতকার করে বলে উঠি কে বানিয়েছে পানির উপর এমন সুন্দর বাগান?  শাপলা ফুল প্রকৃতির দান। শুকনো মৌসুমে শাপলার মূল মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে। বৃষ্টি ও বর্ষার পানি পেয়ে সেই মূল থেকে গাছ জন্মায়, ফুল ফোটে। সবুজ পাতা তার মধ্যে ফুটে থাকা অনেক অনেক ফুল। জ্যোত্স্না রাতে পানির উপর ভেসে থাকা রং-রেবঙের শাপলা ফুলকে আকাশের তারার মতো দেখায়। শাপলা যে শুধু ফুল তাই নয়। সবজি হিসাবেও খাওয়া যায়। বর্ষাকালে শহরের ফুলের দোকানে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে শাপলা, কদমসহ অন্যান্য ফুল বিক্রি করতে দেখা যায়। অনেকেই এই ফুল কিনে নিয়ে ঘরের শোভা বাড়ান। রাজধানীর ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে বিরাট আকৃতির শাপলার প্রতিকৃতি রয়েছে, যা আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বহন করে।

রূপগঞ্জের শাপলা বিলঃ

দুর থেকেই চোখে পড়বে লাল আর সবুজের মাখামাখি। কাছে গেলে স্পষ্ট হবে শাপলা ফুলের এক প্রাকৃতিক স্বর্গ। দেখেই চোখ জুড়িয়ে যাবে। আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে থাকা হাজার হাজার লাল শাপলা দেখতে কার না ভালো লাগে!
সূর্যের সোনালি আভা শাপলাপাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় এই বিলের সৌন্দর্য। নৌকা কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা। সে হাসিতে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা।

জায়গাটি ঢাকার খুব কাছেই। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের পাশেই এই বিল। এটিকে সবাই ‘শাপলার বিল’ নামে চিনলেও এর মূল নাম শিমুলিয়া কুলাদি বিল। ফুল ফোটার পর থেকেই পাথরে বন্দি জীবন কাটানো মানুষরা প্রশান্তির আশায় ছুটে আসেন এ বিলে।

তিন ধরনের শাপলা জন্মে এ বিলে—লাল, সাদা ও বেগুনি রঙের। তবে লাল শাপলাই বেশি। সাধারণত আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে শাপলা থাকে। সেখানে বেশ কয়েকটি ছোট নৌকা রয়েছে, চাইলে সেগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারেন ঘণ্টা চুক্তিতে।

সেদিন আমরা অনেক রাতে বাড়ি ফিরেছিলাম। সবার চোখে-মুখে ছিল আনন্দের ছাপ। আর হাতে ছিল রং- বেরঙের শাপলা ফুল।

যেভাবে যাবেনঃ

দেশের যে কোনো জায়গা থেকে রূপগঞ্জ যেতে পারেন। এরপর সেখান থেকে কাঞ্জন ব্রিজ। অথবা কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মাইক্রোতে যেতে পারেন কাঞ্চন ব্রিজ। জনপ্রতি ভাড়া নেবে ৬০ টাকা। এরপর সেখান থেকে অটো রিকশায় যাবেন শিমুলিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *