আমরা যা পেয়েছি তা বিলিয়ে দিতে হবে-মেজর জেনারেল (অবঃ) ইবরাহিম, বীর প্রতীক

জীবনের শুরুতে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছেন আমার পিতা এস এম হাফেজ আহমদ ছোট মামা এসএম  নুরুন্নবী এবং কৈশোরে প্রভাব ফেলেছেন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের সম্মানীত শিক্ষকরা।

আমি যখন চট্টগ্রাম বন্দর প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ফাইভের ছাত্র  তখনকার একটি ঘটনা, ক্লাসে মোট ৫০ জন ছাত্র ছিল। তাদের মধ্যে থেকে ২০ জন ছাত্রকে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হল। দুর্ভাগ্যবশত বৃত্তি পরীক্ষার জন্য মনোনীত ওই ২০ জন ছাত্রের তালিকায় আমার নামটি ছিল না। বৃত্তি পরীক্ষা হল। সবাই বৃ্ত্তি পেল এবং বৃত্তি পাওয়া ছাত্ররা ফাইনাল পরীক্ষা না দিয়ে অটোমেটিক প্রমোশন পেয়ে ক্লাশ সিক্সে উঠে গলে। যে ৩০ জন ছাত্র বৃত্তি পরীক্ষায় অযোগ্য হিসেবে থেকে গেলাম তারা সবাই ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে উঠার জন্য ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করালম। ওই পরীক্ষায়  আমি প্রথম স্থান অধিকার করলাম। এই ঘটনাটি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অতঃপর সিক্স থেকে সেভেনেও আমি প্রথম স্থান অধিকার করি। ওই ঘটানাটি আমাকে সেই বিশ্বাস দিয়েছে যে, প্ররিশ্রম করলে সবকিছুই অর্জন করা সম্ভব।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)এর শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতা, মহানুভবতা ইত্যাদির জন্য আমি তাঁকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি। দ্বিতীয় রাজনৈতিক অংগনে যারা প্রভাব বিস্তার করেছেন, তারা হচ্ছেন মওলানা আবদুল হামিদ খঅন ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শের- ই- বাংলা একে ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মুক্তিযেদ্ধকালনি প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর এম এজে ওসমানী। জীবিত ব্যাক্তিদের মধ্যে আমার ওপর দুজন প্রভাব বিস্তার করেন, এক হচেছ আমার মা শামসুন্নাহার-যার প্রভাবকে আমি কোনভাবেই সংজ্ঞায়িত করতে পারব না। দ্বিতীয় জন হচ্ছে আমার স্ত্রী ফোরকান, যিনি গত ৩২ বছর আমার ওপর শান্তিপ্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। যাদের আমি অধিক পছন্দ করি।

জেনারেল কলিন পাওয়েলের লেখা বই, ফিল্ড মার্শাল মনগোবরের লেখা বই এবং মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী আমার বিশ্বাসকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে- এই গানটি আমি সবাইকে শুনতে উৎসাহিত করি। তৌকির আহমেদের জয়যাত্রা, হুমায়ূন আহমেদের আয়োময়। যেখানে ছোট মির্জার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আসাদুজ্জামান নুর। ফিল্ড মার্শাল স্লিম, যিনি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বার্মা জয় করেছিলেন- তার লেখা একটি বই।

কিছু সংখখ্যক শুভাকাঙ্খী আছে যারা আমাকে বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করেন। যেমন পত্রিকায় লেখালেখি বা মত প্রকাশের ক্ষেত্রে এক ব্যক্তি, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক ব্যক্তি এবং সাংসারিক কাজে অন্যরকম ব্যক্তি, যাদের পরামর্শ ও মতামকে আমি গুরুত্ব দেই। অনেক ক্ষেত্রেই আমি আমার স্ত্রীর সংঙ্গেও আলাম করি।

আমি যেহেতু সেনাবাহিনীতে ছিলাম সেই জন্য ১৯৯০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কলেজে লেখাপড়া করেছি, তার মটোটি হচ্ছে ‘নট টু প্রমোট ওয়ার বান টু প্রিজার্ভ পিস’।অর্থ্যাৎ যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, শান্তিকে রক্ষা করা। এর আগে ফৌজদারহাট ক্যাডেট করেজের মটোটি ছিল ‘কথা নয় কাজ’ এ উদ্ধিৃতিটিও আমার খুবই পছন্দের।

আমাদের দেশের লোকেরা নিজেদের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে কার্যকর করতে গিয়ে অন্যের ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করে ফেলে, এটাই সবচেয়ে বড় বাধা।

আমি যদি আইন প্রনেতা হতাম তাহলে সবার আগে প্রণয়ন করতোম যা জাতীয় সম্পদ ও জনগণের সম্পদ, তা দৃশ্যমান হোক অদৃশ্যমান হোক, ওই সম্পদ ধ্বংসকারী চরম শাস্তি পাবে- এম একটি আইন।

বর্তমানে আমার বসয়স ৭০ চছর শেষ হয়ে ৭১ শুরু এই মুহুর্তে আমার জীবনের দর্শন হচ্ছে- আল্রাহ আমাকে  অনেক দিয়েচেন। সে জন্য আল্রাহর কাছে কৃতজ্ঞতা। আমার জীবনের চাওয়া-পাওয়া যে দর্শন সেটি হচ্ছে- আমার যা পেয়েছি তা বিলিয়ে দিতে হবে।

একাধিক স্মরণীয় বছর, ১৯৬২তে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি, ১৯৬৮তে বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার ১৯৭০-এর সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়ার সময় প্রথম স্থান অধিকার ১৯৯১ এ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, এই বছরগুলোর মধ্যথেকে কোন একটি বছরকে আলাদা করে নেয়া সম্ভব নয়।এসবগুলোই আমার কাছে স্মরনীয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *