ঢাকার কাছে ধরাশায়ী রাজশাহী

বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে রানখরা দেখে মিরপুরে আসা দর্শকরা হয়ত ভাবেননি সন্ধ্যায় ফ্ল্যাডলাইটের আলোয় দেখা যাবে চার-ছক্কার ঝলকানি। দুপুরে চট্টগ্রাম ভাইকিংসের বিপক্ষে মাত্র ৯৮ রান নিয়েও শেষ ওভার পর্যন্ত লড়েছে রংপুর রাইডার্স। রাতের ম্যাচে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ৯ ওভারেই ঢাকা ডায়নামাইটস তুলে ফেলে ১০০ রান। একই উইকেটে দিন ও রাতের ম্যাচে দেখা গেল বিপরীত চিত্র।

বিনা উইকেটে শতরান পাড়ি দেয়া ঢাকা দুইশ ছোঁয়ার দারুণ সম্ভাবনা জাগালেও পারেনি ২০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে।

হযরত উল্লাহ জাজাই ও সুনিল নারিন মিলে ওপেনিং জুটিতে উপহার দেন ১১৬ রান। পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালে রান তোলার গতি কিছুটা কমে আসে।

২৮ বলে ৩৮ করে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন নারিন। ৪১ বলে ৭৮ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে ফেরেন হযরতউল্লাহ। দুই ওপেনার সাজঘরে ফেরার পর কাইরেন পোলার্ড (৩), অধিনায়ক সাকিব আল হাসান (২), নুরুল হাসান সোহান (১) রানের চাকা ঘোরাতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন।

শেষে শুভাগত হোম ব্যাটে ঝড় তুললে ১৮৯ রানের লড়াকু পুঁজি পায় ঢাকা। শুভাগত ১৪ বলে ৩৮ ও রাসেল ১৯ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। ষষ্ঠ উইকেটে ২৮ বলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজনে।

আরাফাত সানি নিয়েছেন দুটি উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, আরাফাত সানি ও কায়েস আহমেদ। ৩ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে উইকেটহীন ছিলেন এক মৌসুম পর বিপিএলে ফেরা আলাউদ্দিন বাবু।

ঢাকা ডায়নামাইটসের ১৯০ রানের জবাবে ৮৩ রানের বড় ব্যবধানে হারে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। মিরপুর শের ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে পরে ব্যাট করা দলের জন্য ১৯০ রানের টার্গেট বেশ কঠিনই বল যায়। ব্যাটিংয়ে নেমে ধীরস্থিরভাবেই এগিয়েছে রাজশাহীর দুই ওপেনার মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ হাফিজ। কিন্তু মুমিনুলকে ফিরিয়ে ২৪ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। ৫ বলে ৮ রান করে মিজানুর রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল। সৌম্য সরকারও ফেরেন অল্প রানেই। আন্দ্রে রাসেলের বলে উইকেটের পেছনে কাজী নুরুল হাসান সোহানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে মাত্র ৩ বলে ৪ রান করে ফেরেন সৌম্য।

ওপেনার হাফিজের সঙ্গে মিলে লোওরি ইভান্স কিছুটা সময় চেষ্টা করলেও বেশিদূর এগোতে পারেননি। ১৩ বলে ১০ রান করে সাকিবের হাতে রান আউট হয়ে ফেরেন। ২ রান করে রুবেল হোসেনের বলে ফেরেন জাকির হাসান।

এক প্রান্ত আগলে থেকে অনেকটা সময় রাজশাহীকে এগিয়ে নেন হাফিজ। তবে শেষ পর্যন্ত রুবেলের কাছে পরাস্থ হয়ে ২৮ বলে ২৯ রান করে উইকেটের পেছনে সোহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার।

হাফিজের বিদায়ের পর আর কেউই বেশি সময় উইকেটে থিতু হতে পারেননি রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা। তবে শেষের দিকে আরাফাত সানি ও পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ব্যবধান কিছুটা কমান। সানি ১৭ বলে ১৮ রান করে আউট হলেও ১৩ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থাকেন মুস্তাফিজ। তবে শেষ পর্যন্ত রাজশাহীকে থামতে হয় ১০৬ রানে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *